Wednesday, March 8, 2017

সায়া


আজ সকাল থেকেই কপাল ফাটছে। চড়চড় করে। ফার্স্ট ডায়মন্ড হারবার লোকাল আজ মিস হল একটুর জন্যে।হাটে আসতে পুরো এক ঘণ্টারও বেশি দেরি হলো।
সপ্তাহে একদিনই কাঁটাতলার এই হাটে আসে গোপাল। সংগ্রামপুর থেকে ভোর বেলা  ফার্স্ট ডায়মন্ড হারবার লোকাল ধরে সোনারপুর। সেখান থেকে ম্যাজিক ভ্যানে করে বামনঘাটা বাজার। সেখান থেকে আবার ভ্যানে করে কাঁটাতলা।
এক বৃহস্পতিবার করেই হাট বসে। বেচা কেনা মন্দ হয়না। আশপাশের গ্রামের লোক হাটের ভরসাতেই থাকে।
গোপাল যখন বছর চারেক আগে এই হাটে আসা শুরু করে তখন কিন্তু এতো রমরমা ছিল না। হালে লোকগুলোর হাতে কাঁচা পয়সা হয়েছে। কাছেই ওই ডালমিয়ার লেদার কমপ্লেক্স হওয়ার পরে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালচিত্রটা অবশ্যই কিছুটা হলেও পাল্টেছে। পাল্লা দিয়ে গোপালদের মত হকার দের সংসারে লক্ষ্মীও সচলা থেকে অচলা হবার চেষ্টা করেছে।
 আজ তো শালা লক্ষ্মীবার সকালটা শুরুই হলো অলক্ষ্মীর মুখ ঝামটা দিয়ে।তখনই বুঝেছিল আজ পুরো দিনটা মাগীর মুখ ঝামটাতেই পুড়ে গেলো।
কোনো ইচ্ছেই ছিলনা গোপালের বিয়েটা করার। বিয়ের আগে থেকেই চিনত জ্যোতিকে। আর জানত ওর নামের মতই জ্বলজ্বলে মুচমুচে চালু কিসসা কাহিনী গুলো।
কিন্তু বিদ্যাসাগর মশাই যে লিখে গেছেন 'গোপাল বড় সুবোধ বালক'। তাই বাবার চানাচুর এর ব্যাবসার মতই ডুবন্ত সংসারটার সেই তখন মসীহা।জ্যোতির বাপ ব্যাবসাটা সামলানোর জন্যে জামাই খুঁজছিল!!কিন্তু মুচমুচে গল্প বলিয়ে ছেলেরা কেউই গল্পের চরিত্র হতে রাজি হয়না।অগত্যা কন্যার 'দায়গ্রস্ত' বাপকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে ততোধিক 'দায়'গ্রস্ত গোপাল।
রাজকন্যা না হলেও রাজত্ব তো ছিলই। ভবতারণ সায়া হাউস। ডায়মন্ড হারবার, বাসন্তী, নামখানা, চাম্পাহাটি এসব জায়গায় ভালই দোকান ধরা ছিল। আর ছিল হাট বার।
সম্মিলনী কলেজের প্ৰথম বর্ষের ছাত্রী জবার প্রেমিক কবি গোপাল খুব দ্রুত কবিতার খাতা গুলো সাপ্তাহিক হিসেবে নিকেশে ভরিয়ে ফেলল।
তবে বাকি সব কিছু বাপের চানাচুর এর মত নেতানোই রয়ে গেল।
জ্যোতির কাছে গোপাল একটা পরজীবী। ওর বাপ ছিল বলে বেঁচে গেছে। আজ অব্দি লোকটা জানেনা ওর গায়ের ঘামের গন্ধটা কিরকম। আর ওর বুকের মাঝের তিলটা, যেটা পলাশ বন্য জন্তুর জল খাওয়ার মত করে চাটতো। রাত হলেই হিসাবের খাতা আর সায়ার বান্ডিল। এক এক সময় মনে হয়েছে, সায়া দিয়ে কি ফাঁস বাঁধা যায়!!
মাঝে মাঝে ভাবে লোকটা কি আদেও ব্যাটাছেলে!!ওকে দেখলে পাড়ার ছোকরা গুলো অব্দি দাঁড়িয়ে চুলে টেরি কাটে!!
পাড়ার ছেলেদের সাথে জ্যোতির ব্যাপারটা গোপাল জানে। সে বালক সুবোধ, অবোধ নয়। আজও হাট থেকে বাড়ি ফেরার সময় দেখলো বিল্টু, বাচ্চুরা ওর বাড়ির পাঁচিল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আড্ডা মারছে। চকচকে চোখ গুলো নতুন মুচমুচে গল্পের খোঁজে জ্যোতির আশপাশেই ঘুরছে। মাগীটা নীচু হয়ে উঠোন ঝাঁট দিচ্ছে দেখতে পেলো।কি এমন আছে ওর?? একটা পাতলা নেতিয়ে যাওয়া হলদে শাড়ি পরে। নীচে একটা লালচে সায়া। সায়ার পিছনটা সেলাই খুলে ফেটে গেছে। গোপালের কপালের মতোই। ফাটা সায়ায় কি ফাঁস বাঁধা যায়!!!

No comments:

Post a Comment