#১
বাসি থালাটার কানায় শুধু শুকনো ঝোল লেগে ছিল। চৌকির তলা থেকে আরশোলা দুটো মারামারি করে খেতে এল।
ওরাও অনেকদিন অভুক্ত।
#২
দুটো শালিখ কবাডি খেলছিল উঠোনে , থুরি ফ্লাটের নিচে গ্যারেজটায় !!
#৩
কিছুতেই ঘুম আসছেনা অম্লানের। কুহেলির ঘুম পাড়ানি নাক ডাকার তালটা নেই। চিতা হয়ে গেছে।
#৪
বাজারের সবাই দেখছে সন্ধে থেকে কুকুর দুটো জোড় লেগে আছে। ওদের এটাই স্বাভাবিক। মানুষ গুলো ইতু পাগলির সাথে বিল্লু আর ওর ছেলেদের দেখতে পায়নি।
#৫
বিকেলের রোদ্দুরটা অলসভাবে শুয়ে পড়েছে।।বিপুল দাস আর জোৎস্না সরকার হয়ে। ৭৭ এর মাঘ মাসের সেই নজরদারি তো এই বৃদ্ধাবাসে নেই।
#৬
তিনটে আরশোলা। চিৎ কেলিয়ে পাশাপাশি পরে আছে। ওদের থেকে ঠিক হাত খানেক দূরেই খালি শিশিটা দাঁত কেলিয়ে হাসছে।আরো তিনটে শিকারের মস্তিতে। প্রথম শিকারটা একটু আগেই মুচমুচে গল্প হয়ে গেল। ছেঁড়া যোনি নিয়েই।
#৭
ট্যাক্সিতে উঠেই শুনল ড্রাইভারটা গুনগুন করে গান গাইছে। "বড় একা লাগে এই আঁধারে..."।সাত বছর আগে শেষ শুনেছিল, ল্যান্ড লাইনের ওপারে। আবীরকে আর ফোন করা হলোনা নূপুরের।
#৮
এত মিষ্টি ধূপের গন্ধটাও অসহ্য লাগছে জয়িতার। পোড়া চামড়ার গন্ধটা কিছুতেই সুযোগ দিচ্ছে না ওকে। সাথে ওই বদরাগী ঘাম টা।
#৯
আপাদমস্তক চাদরে ঢেকে ঘুমাচ্ছে জয়। এই দগদগে গরমেও। কাল ঠিক যেমন করে কুহেলি শুয়ে ছিল হাসপাতালের বেডে।
#১০
অমাবস্যা গলির অন্ধকারটাকে দুরন্ত স্কিলে টালমাটাল ডজ করতে করতে এগিয়ের যাচ্ছে শোভন। ৪১/বি শ্যামাচারণ মিত্তির লেনের বাড়িটার দিকে। হুইস্কির আমেজটা ঠান্ডা পানের সাথে বেশ আরামে মিশে যাচ্ছে।হুট করে একটা মেয়েলি হাত শোভনের কাঁধটা সামলে ধরল।
-"এই কমলী ছোড় দে আজ মুঝে। পকেটে একটা পয়সা নেই মাইরি। একটা বেলফুলের মালাও...."
-"বাবু আমি তোর মা!!"
#১১
ভীষণ লজ্জা লাগছে শর্মিলার। ওর ভরা বসন্তের উদোম শরীরটাকে লোকগুলো হাঁ করে মন দিয়ে গ্রাস করছে। ওর চোখ, মুখ, স্তন, নাভি, যোনি সব কিছু দুর্ভিক্ষের নেশায় গিলে খাচ্ছে ওরা। ওর কিচ্ছুটি বলার নেই স্টেথো গলার পুরুষ গুলোকে। আ্যনাটমি ক্লাসে যেরম হয় আর কি!!
#১২
৮.২৫ এর বারুইপুর লোকালটাও বেরিয়ে গেল। দু ঘন্টা ধরে স্টেশনে বসে সব সব্জিওয়ালাদের ডাকাডাকি, দরাদরি পুরো দাড়ি কমা সমেত মুখস্থ হয়ে গেছে পরিমল সরকারের। দীর্ঘদিন যাবৎ আর্মিতে চাকরি করার সুবাদে চেহারার পাশাপাশি ধৈর্যটাও বেশ ভালো,এই বয়সেও। ছোট ছেলে ব্রতীন ডিউটি থেকে ফেরার সময় মোটামুটি এই সময়েই ফেরে। ৮.২৫ এর বারুইপুর লোকাল। আজ এই ট্রেনে তো এলোনা। বয়স্ক মানুষটি জানেন এবার কোনো কারণে দেরী হচ্ছে। ওনার এখনো বীরগতিচক্রর মেডেলটা মিথ্যেই লাগে।
#১৩
নধর কচি মুরগী দুটো দিব্বি এক্কা দোক্কা খেলছে উঠোনে ।ঠিক যেমন করে একটু পরে খেলবে জুঁই আর শিউলি। এক্কা দোক্কা ...উবু দশ, কুড়ি, ত্রিশ...একদম কচি বাবু...জবাই হবার আগে।
#১৪
আকাশ কালো করে বৃষ্টি এসে কাগজের হেডলাইনটা ঢেকে দিল ঝুপ করে। অগত্যা সাতের পাতায় আড়াই ইঞ্চি। অহংকারী নম্বর প্লেটের সাথে পিষে যাওয়া ফুটপাথের আর জাতে ওঠা হল না!!

No comments:
Post a Comment