Wednesday, March 8, 2017

গন্ধ

একটা অদ্ভুত বিটকেল গন্ধ দুদিন ধরে নাকে সেঁটে বসে আছে। মস্তিষ্কের যে কোষ গুলি ঘ্রাণ অনুভব করে, তাদের ঘুম কেড়ে নেওয়া গন্ধ। অথচ কলকাতা পুলিশের দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া অফিসার দীনেশ দত্ত বহু রকমের গন্ধ চেনেন।
ছেলেবেলায় বাড়ির উঠোনের বকুল ফুল গাছটা তার খুব আপন ছিল। সেই গাছের সাথেই তার ছেলেবেলার গন্ধটা বহুদিন মিশে ছিল।
চাকরি জয়েন করার মাস ছয়েক আগে, এক বৃষ্টির সন্ধ্যায় মা কে যখন চিতায় তোলা হলো, সেই তার প্রথম চামড়া পোড়ার গন্ধ পাওয়া।যদিও সেবার চামড়ার থেকেও মায়ের আদরের গন্ধ বেশি মিশে ছিল।
জীবনের প্রথম অনুভূতিহীন গন্ধটা পেয়েছিল পুলিশ ট্রেনিংয়ে। বারুদের গন্ধ।
কলকাতায় পোস্টিং এর পরে একদিন মন ভালো করা গন্ধ পেল সোনাগাছিতে লক্ষ্মী মাসির ঘরে। পাতানো মেয়ে।সেদিনই প্রথম পিয়ালিকে দেখেছিল। বাংলাদেশের মেঠো রূপে সেই প্রথম কেমন একটা অন্য গন্ধ পেয়েছিল। পদ্মার বান ডেকেছিল বুকের ভিতর।তারপর থেকে প্রতি সপ্তাহে, যতদিন না পিয়ালি হারিয়ে গেল শুধু গন্ধ টুকু রেখে।
তবে এতদিনে সব থেকে ঘনিষ্ঠ হয়ে গ্যাছে মর্গের ওষুধ ভেজা অদ্ভুত গন্ধটা। ওটা এখন নেশার মতই হয়ে গ্যাছে। পচা লাশের গন্ধ আছে বলেই ওদের মতো পুলিশের চাকরি আছে।
 প্রতিবার এনকাউন্টার এর পরেও একটা অদ্ভুত গন্ধ পায় দীনেশ। মাঝে মাঝে মনে হয় পিছন থেকে গুলি করে মারা লোকগুলোর অশরীরী গন্ধ ওটা।
তবে এই গন্ধটা নেওয়া যাচ্ছে না। পরশু থেকে হচ্ছে। ৬টা খুনের আসামী, দাদার আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে বেলগাছিয়া দাপিয়ে বেড়ানো দিলীপ।কদিন ধরেই ওপর থেকে চাপ আসছিল দিলীপ কে ঠুকে দাও। নয়তো একটা যুৎসই কাজের মতো কাজ ভোটের আগে দেখানো যাচ্ছেনা। ৪ জনের টিম নিয়ে সেই কাজেই বেরিয়েছিল পরশু দুপুরে। খবর ছিল বাজারের পিছনের নতুন গজিয়ে ওঠা ফ্লাটটায় আছে একটা মেয়েছেলে নিয়ে।একদম অভ্যেস মতোই দরজা ভেঙে ঢুকে পড়েছিল। পরপর দুটো দানা দিলীপ এর জোড়া ভুরুর মাঝে । সেই সময় মেয়েছেলটা বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো। পরনের কাপড় নেই সেটা তখন খেয়াল নেই। সামনে দিলীপের বডি। মেয়েছেলটা ঝাঁপিয়ে পড়লো।নগ্নতা দিয়ে মৃত্যুর গন্ধটা ঢেকে দিতে। তার মেঠো গন্ধটা তো বহুদিন আগেই দীনেশের বুকে হারিয়ে গ্যাছে।


No comments:

Post a Comment