Tuesday, March 7, 2017

ঘুগনি

দুদিন হলো তাস খেলাটা বন্ধ।সেদিন সুকুমার এর সাথে ঝামেলার পর থেকে।

১১.০৫ এর শেষ ট্রেনটা এরা সবাই ধরে। লেদার কমপ্লেক্স এর ১ নম্বর গেট থেকে বাসে পার্কসার্কাস স্টেশন আসে মনিরুল। বালিগঞ্জ থেকে ওঠে নিতাই। বালিগঞ্জ স্টেশনের কাছেই ঘুগনি বিক্রি করে। মথুরাপুর নামে।হাঁড়িতে চারজনের মতন করে ঘুগনি নিয়েই ওঠে। সুকুমার আর শ্যামল শিয়ালদা থেকেই জায়গা রেখে আসে।

দুদিন ধরে সুকুমার নেই। সোমবার রাতে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তাস খেলায় অতন্ত্য আপাত সাধারণ একটা ব্যাপার।

"সুকুটা বড্ড বেশি গায়ে মাখেরে শ্যামল। তা বাপু তাস খেলতে এয়েছিস, এট্টু তো ইদিক ওদিক হবোই।"

"আসলে লোকডা বড় সৎ মানুষ গো নিতাই দা। সেই হরেকেষ্ট কোঙার যখন আসত হাই ইস্কুলের মাঠে , সেই থেকে লাল পার্টি করে ও দাদা। ঘর ভর্তি কেতাব।"
মনিরুল বলল।

"তোকে এত খবর কে দ্যায় রে ?"শ্যামল জানতে চায়।

"আরে আমার চাচা আর সুকুদা হকার ইউনিয়ন করে গো একসাথে বড়বাজারে।"

"নে ঘুগনিটা শেষ করে বাপধন তোরা।"

"কাকা একটু ঘুগনি পাওয়া যাবে?" ছেলেটা গতকাল থেকে এই কামরায় যাচ্ছে। শিয়ালদা থেকেই ওঠে। বাচ্ছা ছেলে। এখনো সরু গোঁফের রেখায় ব্লেড পড়েনি একবারও। গতকাল ওদের পাশে বসেই ফিরল।

"বাপি ঘুগনি খেতে খুব পছন্দ করে।এক বাটি একটু হবে কাকা? এই টিফিন বক্স করে বাড়ি নিয়ে গে দিতুম।"

"আমাদের ঘুগনিখেকো লোকডা দুদিন ধরে আসতিছে না। তা বেশিই আছে। নে যা তুই।"নিতাই আপত্তি করেনা।

"এই ছাওয়াল তোর বাপ এখন এই অবস্থায় ঘুগনি খাবে?" ছেলেটা তেউনি পরে। মনিরুলের কথায় ব্যাপারটা বাকিদের খেয়াল হল।

"চাচা বাপি সোমবার এই ট্রেনে তোমাদের সাথে তাস খেলে আর বাড়ি ফেরেনি গো। পথেই ব্রেন ইসট্রোক। ভোরবেলা তেই সব শেষ।"

ছেলেটা ঘুগনির গন্ধটা শুকতে লাগলো।

No comments:

Post a Comment