সকাল থেকে আজ আগডুম, বাগডুমের দৌড় ঝাঁপ চলছে।আজ ওদের কমিটির মিটিং আছে। আর তিন দিন পরেই দোল। কিছুই পরিকল্পনা হয়নি এখনো। সেই জন্যে এই জরুরি অবস্থায় মিটিং। মোটামুটি সবাই আসবে। ভুতো, ভোলু, লালু, পঞ্চু, মোতি। রকি, ডন, কুট্টুস, বেবি ওরাও আসার চেষ্টা করবে বলেছে। আর আছে ওদের বড় দাদা ঘোড়াডুম। সেই আজকের সভাপতি। তা এত বড়সড় মিটিং, তাই খাবার দাবারও চাই জমিয়ে। লালি, মিসকা আর পরী খাবার জোগাড়ের দায়িত্বে। পাড়ার তিনটে খাবারের ঠেক থেকে মোটামুটি জোগাড় করে ফেলেছে ওরা। বাকিটা জোগাড় হবে ওই মিত্তিরদের বাড়ী থেকে। কাল ওদের ছোট ছেলে রিন্টুর জন্মদিন ছিল। রিন্টু ভীষন ভালো। এমনি দিনেই বেঁচে যাওয়া খাবার ওদের দিয়ে দেয়। আর কালতো ওর জন্মদিন ছিল। খাবার বাঁধা ওই বাড়ী থেকে।
তা আজ আগডুমদের ওই গ্যারেজ এর পিছনেই আজ মিটিং হবে। আগডুম বাগডুম বেশ ভালই সাজিয়েছে। সবাই এসে গেছে। চুপচাপ বসে বসে কেউ চেটে চেটে হাত পা পরিষ্কার করছে, কেউ আবার অন্য জনের কান সাফ করে দিচ্ছে। আর দু তিন জন তো দিব্বি গোল পাকিয়ে ঘুম দিচ্ছে। কারন ঘোড়াডুম এখনো আসেনি।
বাগডুম সবে ভাবছে যাবে কিনা ডাকতে ঘোড়াডুমকে অমনি দেখতে পেল আসছে ঘোড়াডুম, সাথে রিনটি কে নিয়ে।
অতঃপর সভা শুরু হল।
"ভৌ ভৌ ভৌ ভৌ ঘৌ ঘৌ ঘৌ ঘৌ ...." শুরু হলো সমবেত প্রার্থনা সঙ্গীত। এবার ঘোড়াডুম শুরু করবে।
"বন্ধুগণ আজ আমাদের এই মিটিং ডাকার একমাত্র কারণ হল দোল। আমরা জানি বিগত কয়েক বছর ধরেই দোলের দিন আমাদের চূড়ান্ত ভোগান্তি গেছে। পাড়ার বিচ্ছুরা যে ভাবে গায়ে রং ঢেলে দিচ্ছে তাতে আমাদের ভীষন ক্ষতি হচ্ছে। ওই বিষাক্ত রং গুলো চেটে, চেটে তোলা অসম্ভব হয়ে যায়। আমাদের চামড়ায় ঘা হয়ে যায়, পোকা ধরে যায়! রং গুলো পেটে গিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা হয়।" একদমে এত গুলো কথা বলে থামল একটু ঘোড়াডুম। তাকাল ভুতোর দিকে। ওর শাগরেদ। ভুতো বুঝলো ওকে বলতে হবে এবার। ঘোড়াডুম এর বয়স হচ্ছে। হাঁপিয়ে যায়।
"তা মাননীয় সভাপতি যা বলছিলেন বন্ধুগণ। দোল মানুষদের খুব আনন্দের এক উৎসব। রং বসন্ত।" - মোটামুটি স্বভাব কবি ভুতো বলতে লাগল।
"আমরাও এই দোল উৎসব দেখতে বেশ পছন্দ করি। কচি কাঁচা গুলো কিরম লাল,হলুদ,বেগুনি,সবুজ,গোলাপি রঙে ফুলের মত ফুটে ওঠে। চারিদিকে বেশ আবীর আবীর গন্ধ। "
"তবে সব থেকে ভাল হলো, ওদিন প্রায় সব্বার বাড়িতে মাংসের হাড্ডি গুলো পাওয়া যায়।খাসি , মুরগি এলাহি কান্ড।" ভোলু বেশ জিভ চেটে বলল।
"আহ আসল কথাটা হোক" ঘোড়াডুম খেই ধরল আবার।
"আমাদের উদ্দেশ্য হল যে ভাবেই হোক এই বছর ওই রং আমাদের গায়ে দিতে দেওয়া যাবেনা। তোমরা রং খেল না বাপু। তোমাদের তো সাবান শ্যাম্পু আছে। আমাদের কি হবে!! তাই বন্ধুগণ আজ এই সভাতেই ঠিক করতে হবে কিভাবে ওই রঙের হাত থেকে বাঁচা যায়। নাও এক এক করে বুদ্ধি দেওয়া শুরু কর।"
-" আজ্ঞে আমরা যদি ওদের দিকে তেড়ে যাই যখন ওরা রং দিতে আসবে??একসাথে দল বেঁধে তেড়ে যাবো।" লালুই প্রথম মুখ খুললো।
-"তোর মাথায় কি একটুও বুদ্ধি নেই?বোঝাই যায় মাছের কাঁটা বেশি চিবুসনে তুই!!ওরা পিচকারী দিয়ে দূর থেকে রং দেবে। বালতি করে ছুঁড়ে মারবে। তুই কি করবি??" আগডুম এতক্ষন পরে কথা বলল।
-"তা যা বলেছিস। ওই ঘোষাল বাড়ির বড় ছেলেটা তো খুব বদমাশ। আগের বার এমন রং দিলো ছোটুটার গায়ে, ছোটুর অমন সুন্দর চেহারা কিরম হয়ে গেল ঘা হয়ে।" আগডুম কে বাগডুম সমর্থন করল।
-"তবে যাই করি আমাদের সেদিন দল বেঁধে থাকতে হবে। একসাথে মিলে মিশে থাকলে আমাদের জোর অনেকটাই বাড়বে।" বিজ্ঞের মত , কিছুটা ওই ক্রিকেট মাঠের ভাষ্যকারের মত পঞ্চু ফুট কাটল।
-"আচ্ছা সেদিন ওই একটা দিনের জন্যে আমরা কোথাও চলে গেলে হয়না আগডুম দা??সবার থেকে লুকিয়ে।"
-"বাজে বকিসনা মোতি। কোথায় যাবো। সব জায়গায় তো একই অত্যাচার।"
-"অনেক তো ভাবলে তোমরা, আমি এবার বলি?" কুট্টুস এতক্ষন চুপ করে সবার কথা শুনছিল। ও বলতেই সব্বাই চুপ করে গেল। আগের বছর দোলেই গায়ের রং সাফ করার জন্যে তোতোনদের বাড়ির পিছন দিকটার পুরোনো ঘরটায় ঢুকে পড়েছিল। গাদা গুচ্ছের পুরোনো বই স্তুপ হয়েছিল ঘরটায়। তার মধ্যে টেনিদা নামের কোন একটা বইয়ে নাকি ও গা মুছেছিল। শেষে খিদে পেতে কটা পাতা নাকি চিবিয়ে নিয়েছিল!! সেই থেকেই ওর বুদ্ধিটায় বেশ পাক ধরেছে।
-"শোনো আমরা রং দিয়েই রং খেলার এই সমস্যা মেটাবে।"
-"রং দিয়ে রং!!" ঘোড়াডুম খানিকটা চমকেই উঠলো!
-"হ্যাঁ, রং দিয়ে রং। শোনো, আমাদের আবীর জোগাড় করতে হবে বুঝলে। আবীর অনেক কম ক্ষতিকারক। আর ভালো আবিরের তো কোনো ক্ষতি হয়না।দোলের দিন ভোর বেলা থেকে আমরা নিজেদের মধ্যে সুন্দর ভাবে রং খেলতে খেলতে মিছিল করে পাড়া দিয়ে গান গাইতে গাইতে যাব। মানুষ গুলো সেই দেখে যদি একটু লজ্জা পেয়ে শুধরায়!!"
-"ভৌ ঘৌ, ঘৌ ভৌ, ভৌ ভৌ, ঘেউ ঘেউ.."যে যার মত করে সমর্থন জানাল এই প্রস্তাব কে। একদল বেরিয়ে গেল রংটা জোগাড় করতে পরিকল্পনা মত। আর বাকিরা গানের রিহার্সাল দিতে লেগে গেল।
দোলের দিন সক্কাল থেকেই গোটা পাড়ার ঘুম মাথায় উঠল। তারস্বরে সব কটা কুকুর একসাথে চিৎকার করছে। তবে বেশ তাল মিলিয়ে!! লোকজন তো ধরেই নিয়েছে পাড়ায় ভোর বেলা ডাকাত পড়েছে। সব পড়ি কি মরি করে ছুটে বাইরে এল। এসে সব্বার চোখ ছানাবড়া!!! গোটা দশেক কুকুর লাইন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এই ভোর বেলাতেই কারা যেন পুরো রং ভূত করে দিয়েছে আবীর মাখিয়ে!!
দাশ বাবুর নাতনী হাততালি দিয়ে উঠল, "ও বাপ্পি , ডাদ্দা সবুজ কুকুল, লাল কুকুল, কি মজা।"
ওদিকে তখন রিন্টুদের বাড়িতে হুলুস্থুল কান্ড।কারা যেন রিন্টুর জ্যাঠার গ্যারেজে ঢুকে চুরি করেছে। আজ রং খেলবেন বলে ভদ্রলোক ফুলের পাপড়ির আবীর এনেছিলেন শান্তিনিকেতন থেকে!!
তা আজ আগডুমদের ওই গ্যারেজ এর পিছনেই আজ মিটিং হবে। আগডুম বাগডুম বেশ ভালই সাজিয়েছে। সবাই এসে গেছে। চুপচাপ বসে বসে কেউ চেটে চেটে হাত পা পরিষ্কার করছে, কেউ আবার অন্য জনের কান সাফ করে দিচ্ছে। আর দু তিন জন তো দিব্বি গোল পাকিয়ে ঘুম দিচ্ছে। কারন ঘোড়াডুম এখনো আসেনি।
বাগডুম সবে ভাবছে যাবে কিনা ডাকতে ঘোড়াডুমকে অমনি দেখতে পেল আসছে ঘোড়াডুম, সাথে রিনটি কে নিয়ে।
অতঃপর সভা শুরু হল।
"ভৌ ভৌ ভৌ ভৌ ঘৌ ঘৌ ঘৌ ঘৌ ...." শুরু হলো সমবেত প্রার্থনা সঙ্গীত। এবার ঘোড়াডুম শুরু করবে।
"বন্ধুগণ আজ আমাদের এই মিটিং ডাকার একমাত্র কারণ হল দোল। আমরা জানি বিগত কয়েক বছর ধরেই দোলের দিন আমাদের চূড়ান্ত ভোগান্তি গেছে। পাড়ার বিচ্ছুরা যে ভাবে গায়ে রং ঢেলে দিচ্ছে তাতে আমাদের ভীষন ক্ষতি হচ্ছে। ওই বিষাক্ত রং গুলো চেটে, চেটে তোলা অসম্ভব হয়ে যায়। আমাদের চামড়ায় ঘা হয়ে যায়, পোকা ধরে যায়! রং গুলো পেটে গিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা হয়।" একদমে এত গুলো কথা বলে থামল একটু ঘোড়াডুম। তাকাল ভুতোর দিকে। ওর শাগরেদ। ভুতো বুঝলো ওকে বলতে হবে এবার। ঘোড়াডুম এর বয়স হচ্ছে। হাঁপিয়ে যায়।
"তা মাননীয় সভাপতি যা বলছিলেন বন্ধুগণ। দোল মানুষদের খুব আনন্দের এক উৎসব। রং বসন্ত।" - মোটামুটি স্বভাব কবি ভুতো বলতে লাগল।
"আমরাও এই দোল উৎসব দেখতে বেশ পছন্দ করি। কচি কাঁচা গুলো কিরম লাল,হলুদ,বেগুনি,সবুজ,গোলাপি রঙে ফুলের মত ফুটে ওঠে। চারিদিকে বেশ আবীর আবীর গন্ধ। "
"তবে সব থেকে ভাল হলো, ওদিন প্রায় সব্বার বাড়িতে মাংসের হাড্ডি গুলো পাওয়া যায়।খাসি , মুরগি এলাহি কান্ড।" ভোলু বেশ জিভ চেটে বলল।
"আহ আসল কথাটা হোক" ঘোড়াডুম খেই ধরল আবার।
"আমাদের উদ্দেশ্য হল যে ভাবেই হোক এই বছর ওই রং আমাদের গায়ে দিতে দেওয়া যাবেনা। তোমরা রং খেল না বাপু। তোমাদের তো সাবান শ্যাম্পু আছে। আমাদের কি হবে!! তাই বন্ধুগণ আজ এই সভাতেই ঠিক করতে হবে কিভাবে ওই রঙের হাত থেকে বাঁচা যায়। নাও এক এক করে বুদ্ধি দেওয়া শুরু কর।"
-" আজ্ঞে আমরা যদি ওদের দিকে তেড়ে যাই যখন ওরা রং দিতে আসবে??একসাথে দল বেঁধে তেড়ে যাবো।" লালুই প্রথম মুখ খুললো।
-"তোর মাথায় কি একটুও বুদ্ধি নেই?বোঝাই যায় মাছের কাঁটা বেশি চিবুসনে তুই!!ওরা পিচকারী দিয়ে দূর থেকে রং দেবে। বালতি করে ছুঁড়ে মারবে। তুই কি করবি??" আগডুম এতক্ষন পরে কথা বলল।
-"তা যা বলেছিস। ওই ঘোষাল বাড়ির বড় ছেলেটা তো খুব বদমাশ। আগের বার এমন রং দিলো ছোটুটার গায়ে, ছোটুর অমন সুন্দর চেহারা কিরম হয়ে গেল ঘা হয়ে।" আগডুম কে বাগডুম সমর্থন করল।
-"তবে যাই করি আমাদের সেদিন দল বেঁধে থাকতে হবে। একসাথে মিলে মিশে থাকলে আমাদের জোর অনেকটাই বাড়বে।" বিজ্ঞের মত , কিছুটা ওই ক্রিকেট মাঠের ভাষ্যকারের মত পঞ্চু ফুট কাটল।
-"আচ্ছা সেদিন ওই একটা দিনের জন্যে আমরা কোথাও চলে গেলে হয়না আগডুম দা??সবার থেকে লুকিয়ে।"
-"বাজে বকিসনা মোতি। কোথায় যাবো। সব জায়গায় তো একই অত্যাচার।"
-"অনেক তো ভাবলে তোমরা, আমি এবার বলি?" কুট্টুস এতক্ষন চুপ করে সবার কথা শুনছিল। ও বলতেই সব্বাই চুপ করে গেল। আগের বছর দোলেই গায়ের রং সাফ করার জন্যে তোতোনদের বাড়ির পিছন দিকটার পুরোনো ঘরটায় ঢুকে পড়েছিল। গাদা গুচ্ছের পুরোনো বই স্তুপ হয়েছিল ঘরটায়। তার মধ্যে টেনিদা নামের কোন একটা বইয়ে নাকি ও গা মুছেছিল। শেষে খিদে পেতে কটা পাতা নাকি চিবিয়ে নিয়েছিল!! সেই থেকেই ওর বুদ্ধিটায় বেশ পাক ধরেছে।
-"শোনো আমরা রং দিয়েই রং খেলার এই সমস্যা মেটাবে।"
-"রং দিয়ে রং!!" ঘোড়াডুম খানিকটা চমকেই উঠলো!
-"হ্যাঁ, রং দিয়ে রং। শোনো, আমাদের আবীর জোগাড় করতে হবে বুঝলে। আবীর অনেক কম ক্ষতিকারক। আর ভালো আবিরের তো কোনো ক্ষতি হয়না।দোলের দিন ভোর বেলা থেকে আমরা নিজেদের মধ্যে সুন্দর ভাবে রং খেলতে খেলতে মিছিল করে পাড়া দিয়ে গান গাইতে গাইতে যাব। মানুষ গুলো সেই দেখে যদি একটু লজ্জা পেয়ে শুধরায়!!"
-"ভৌ ঘৌ, ঘৌ ভৌ, ভৌ ভৌ, ঘেউ ঘেউ.."যে যার মত করে সমর্থন জানাল এই প্রস্তাব কে। একদল বেরিয়ে গেল রংটা জোগাড় করতে পরিকল্পনা মত। আর বাকিরা গানের রিহার্সাল দিতে লেগে গেল।
দোলের দিন সক্কাল থেকেই গোটা পাড়ার ঘুম মাথায় উঠল। তারস্বরে সব কটা কুকুর একসাথে চিৎকার করছে। তবে বেশ তাল মিলিয়ে!! লোকজন তো ধরেই নিয়েছে পাড়ায় ভোর বেলা ডাকাত পড়েছে। সব পড়ি কি মরি করে ছুটে বাইরে এল। এসে সব্বার চোখ ছানাবড়া!!! গোটা দশেক কুকুর লাইন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এই ভোর বেলাতেই কারা যেন পুরো রং ভূত করে দিয়েছে আবীর মাখিয়ে!!
দাশ বাবুর নাতনী হাততালি দিয়ে উঠল, "ও বাপ্পি , ডাদ্দা সবুজ কুকুল, লাল কুকুল, কি মজা।"
ওদিকে তখন রিন্টুদের বাড়িতে হুলুস্থুল কান্ড।কারা যেন রিন্টুর জ্যাঠার গ্যারেজে ঢুকে চুরি করেছে। আজ রং খেলবেন বলে ভদ্রলোক ফুলের পাপড়ির আবীর এনেছিলেন শান্তিনিকেতন থেকে!!
No comments:
Post a Comment